প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নির্ধারণে বিশ্বের কোথাও কোনো নজির নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার (৭ জুলাই) গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “পৃথিবীর কোনো গণতান্ত্রিক দেশে প্রধানমন্ত্রীর জন্য মেয়াদ নির্ধারিত নেই। কারণ, গণতন্ত্রে ক্ষমতার উৎস জনগণ। তবে আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কেউ ১০ বছরের বেশি সময় প্রধানমন্ত্রী পদে বহাল থাকতে পারবেন না। এর লক্ষ্য হচ্ছে দেশে আর যেন কোনো স্বৈরাচার বা ফ্যাসিস্ট শাসনের জন্ম না হয়।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা মনে করি প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ রাষ্ট্র পরিচালনার নির্বাহী কাঠামোর একটি অংশ। এই বিষয়গুলো নিয়ে এনসিসি বা জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আলোচনার সময় আমরা স্পষ্ট করে বলেছি—জাতীয় কোনো ধারণা চাপিয়ে না দিয়ে বাস্তবতাকে সামনে রেখে অগ্রসর হওয়া উচিত। আলোচনার দরজা খোলা থাকলেও, দীর্ঘসূত্রতা কাম্য নয়।”

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, “সংখ্যানুপাতিক ভোট ব্যবস্থা (পিআর) একটি ধারণা, যেটি বিভিন্ন দেশে বিভিন্নভাবে প্রয়োগ হয়। যারা এই ব্যবস্থার পক্ষে কথা বলছেন, তারা কেমনভাবে পিআর বাস্তবায়ন হবে, সে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য দিচ্ছেন না। ফলে এই বিষয়ে একটি অস্পষ্টতা তৈরি হচ্ছে, যা আলোচনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্রও একটি ধারণা। কিন্তু আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ভারত কিংবা শ্রীলঙ্কা—সব দেশেই গণতন্ত্রের বাস্তবায়ন পদ্ধতি ভিন্ন। একইভাবে পিআর ব্যবস্থারও বহু রূপ রয়েছে। এখন যারা এই ব্যবস্থা চাইছেন, তাদের আগে পরিষ্কারভাবে বলতে হবে তারা ঠিক কী ধরনের পিআর চান।”

নজরুল ইসলাম খান বলেন, “জুলাই সনদের বিষয়ে আমরা অনেক আগেই আমাদের মতামত জানিয়েছি। যারা এখনো অংশ নেয়নি বা দেরি করছে, তার দায় বিএনপির নয়। এই বিষয়ে আমাদের দায়িত্ব আগে থেকেই পালন করা হয়েছে।”

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নেতারা একযোগে বলেন, “দেশের ভবিষ্যৎ, গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার জনগণের। আলোচনা চলবে, তবে সেটি যেন ফলপ্রসূ ও বাস্তবভিত্তিক হয়, এটাই প্রত্যাশা।”